গুজব কেন বাতাসের বেগে ধায়? গোডে ও ন্যাশম্যান বেন ইয়েহুদা বলেছেন, সব ধরনের গুজবের মধ্যেই এক ধরনের নৈতিক সংশ্লেষ থাকে বলে তা বাতাসের মতো দ্রুত ছড়ায়। অর্থাৎ খবরটা মিথ্যা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে মনে হয় সমর্থনযোগ্য। এই কারণহেতু নওশাবা যখন খবর দেন শিক্ষার্থীদের মেরে ফেলা হচ্ছে, মেয়েদের নির্যাতন করা হচ্ছে—সবাই রাস্তায় নেমে আসুন; তখন মানুষ তা বিশ্বাস করে এবং নৈতিকভাবে সমর্থন জানায়। তারপর এই খবর সে দ্রুত আরো দশজন মানুষের মধ্যে পাচার করে দেয়। সেই দশজনে আরো বিশজনের মাঝে। এটা একটা শৃঙ্খল বিক্রিয়ার মতো গুণিতক হারে বাড়তেই থাকে। এরমধ্যে যদি গুজব যাচাইয়ের কোনো অপশন না থাকে তবে তা বাড়তে থাকে আরো দ্বিগুণ গতিতে। অগ্রজ সাংবাদিক কামাল আহমেদ যেমনটা লিখেছেন প্রথম আলোয়: ‘মূলধারার গণমাধ্যমে খবর না পেলে বিকল্প পথে গুজব যে আরও ফুলে ফেঁপে উঠবে, সেটাই তো স্বাভাবিক।’
ফলে গুজব বাতাসসম ধায়।
২০০৯ সালে গোডে ও ন্যাশম্যান বেন ইয়েহুদা ‘কালেকটিভ বিহেভিয়র অ্যান্ড সোস্যাল মুভমেন্ট’ নামে একটি বই লেখেন। সেই বইয়ের একটি অধ্যায়ে তাঁরা গুজবের বিষয় আশয় নিয়ে নানা কথা বলেছেন। গবেষকদ্বয় বলছেন, কালেকটিভ বিহেভিয়র—অর্থাৎ সম্মিলিত আচরণের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এখানে সবাই একই ধরনের আচরণ করে। ফলে গুজব যখন কোনো সম্মিলিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে ছড়ায় তখন তা সবাই একযোগে বিশ্বাস করে একই ধরণের আচরণ করতে শুরু করে। গোডে ও ন্যাশম্যান বেন ইয়েহুদা এটাকে ‘গণ হিস্টিরিয়া’ রোগের সঙ্গে তুলনা করেছেন। আমরা প্রায়শই খবরের কাগজে দেখি যে অমুক স্কুলে প্রায় সব শিক্ষার্থী একযোগে অজ্ঞান! কিংবা সব শিক্ষার্থী একযোগে ঘামছে, অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে ইত্যাদি। একজনের দেখাদেখি অন্যজনের মধ্যে সংক্রমিত হওয়া আর কি।
ফলে গুজব বাতাসসম ধায়।
২০০৯ সালে গোডে ও ন্যাশম্যান বেন ইয়েহুদা ‘কালেকটিভ বিহেভিয়র অ্যান্ড সোস্যাল মুভমেন্ট’ নামে একটি বই লেখেন। সেই বইয়ের একটি অধ্যায়ে তাঁরা গুজবের বিষয় আশয় নিয়ে নানা কথা বলেছেন। গবেষকদ্বয় বলছেন, কালেকটিভ বিহেভিয়র—অর্থাৎ সম্মিলিত আচরণের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এখানে সবাই একই ধরনের আচরণ করে। ফলে গুজব যখন কোনো সম্মিলিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে ছড়ায় তখন তা সবাই একযোগে বিশ্বাস করে একই ধরণের আচরণ করতে শুরু করে। গোডে ও ন্যাশম্যান বেন ইয়েহুদা এটাকে ‘গণ হিস্টিরিয়া’ রোগের সঙ্গে তুলনা করেছেন। আমরা প্রায়শই খবরের কাগজে দেখি যে অমুক স্কুলে প্রায় সব শিক্ষার্থী একযোগে অজ্ঞান! কিংবা সব শিক্ষার্থী একযোগে ঘামছে, অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে ইত্যাদি। একজনের দেখাদেখি অন্যজনের মধ্যে সংক্রমিত হওয়া আর কি।
![]() |
| গুজব চেনা দায়। ছবি: মেগান ক্রিভেলো |
একইভাবে গুজবও যখন সম্মিলিত মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হয় তখন তারাও গণ হিস্টিরিয়া রোগীর মতো আচরণ করে। তবে তা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, ঘেমে যাওয়া বা ডায়রিয়া হওয়ার মতো বিষয়ে রূপ নেয় না। যেহেতু গুজবের মধ্যে এক ধরনের নৈতিকতার অ্যালকোহল মেশানো থাকে, তাই কালেকটিভ পিপল তখন নৈতিক মাদকতায় আক্রান্ত হয়। সর্বশেষ জিগাতলার ঘটনায় সেই নৈতিক মাদকতার দৃশ্যই অবলোকন করল দেশবাসী।
২.
পুলিশকে গুপ্ত কেশের সঙ্গে তুলনা করায় আমার একসময়ের সহপাঠী বন্ধু-বান্ধবরা বেশ দুঃখ পেয়েছে, যারা এখন পুলিশ বাহিনীতে চাকরি করছে। ফেসবুকে ঢুকলেই তাদের দুঃখভারাক্রান্ত পোস্ট চোখে পড়ছে। এরকম দুঃখিত এক বন্ধুকে বলেছি, এসব ‘চ্যা-বা’ গালিকে ব্যক্তিগতভাবে না নিতে। কারণ পুলিশ কোনো ব্যাক্তির নাম নয়। এটি একটি সেক্টরের নাম। এটি একটি সিস্টেমের নাম। ফলতঃ গালিটা ওই সিস্টেমের বিরুদ্ধেই। আরো গভীরভাবে দেখলে দেখা যাবে, এই কিশোর কিশোরীরা বিভিন্ন গালিগালাজের মাধ্যমে যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সেটা মূলতঃ রাষ্ট্র ব্যবস্থার বিরুদ্ধেই ক্ষোভ। তারা প্রকৃতার্থে রাষ্ট্র ব্যবস্থাকেই চ্যালেঞ্জ করেছে। কোনো পুলিশকে নয়। পোস্টারগুলো লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, তারা লিখেছে ‘ফোর জি স্পিডের নেটওয়ার্ক চাই না, ফোর জি স্পিডের বিচারব্যবস্থা চাই’, ‘নয় টাকায় এক জিবি চাই না, নিরাপদ দেশ চাই’, ‘রাস্তা বন্ধ, রাষ্ট্রের মেরামত চলছে’ ইত্যদি। এইসব পোস্টার স্পষ্ট বার্তা দেয় যে তারা সমগ্র রাষ্ট্রব্যবস্থারই সংস্কার চায়। কিন্তু সেই সংস্কারের পথে পুলিশকে অন্যতম বাধা হিসেবে দীর্ঘ সময় ধরে দেখছে তারা। শুধু যে বিগত দশ বছর ধরে দেখছে তা নয়, বরং তারো বহু আগে থেকে এই চর্চা তারা দেখে আসছে। যখন যে সরকার ক্ষমতায় এসেছে, সে সরকারই পুলিশের ওপর ভর করে টিকে থাকতে চেয়েছে। তাই মানুষের যত ক্ষোভ পুলিশের ওপর।
কিন্তু প্রশ্ন উঠতে পারে, রাষ্ট্রের তো আরো অনুসঙ্গ তথা সেক্টর রয়েছে, সেসব বাদ দিয়ে শুধু পুলিশকে গালি দেওয়ার মাধ্যমে কেন ক্ষোভের প্রকাশ? উত্তর: দৃশ্যত পুলিশ বাহিনীর ওপর ভর করেই সরকার তার রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রেখেছে। পুলিশ বাহিনি সরকারের আজ্ঞাবহ দাসে পরিণত হয়েছে। সরকার তার বেশিরভাগ অপকর্মের বৈধতা আদায় করে নিচ্ছে পুলিশের মাধ্যমে। মানুষের জন্য সরকারের যাবতীয় অপকর্মের প্রতিবাদ করার পথে প্রধান অন্তরায় পুলিশ। মানুষ দেখছে, পুলিশ তার প্রতিবাদকে সরকারের কাছে পৌঁছাতে দিচ্ছে না। অর্থাৎ সরকার ও মানুষের মাঝে এক দুর্ভেদ্য দেয়াল হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে পুলিশ। মানুষ যদিও জানে, সরকারের নির্দেশেই পুলিশ দেয়াল হিসেবে কাজ করছে, তবু সব সময় যুক্তির নিরিখে মানুষ চলতে পারে না। বিশেষতঃ চতুর্পাশ থেকে নিপীড়ন যন্ত্র যখন মানুষকে ছিবড়ে ফেলে তখন তার যুক্তি লোপ পায়। এরসঙ্গে যুক্ত হয়েছে চিরায়ত নৈতিকতা। মানুষ সেই ছোটবেলা থেকে বই পুস্তকে পড়ে আসছে যে পুলিশ মানুষের বন্ধু। রাজনৈতিক নেতাদের মুখেও অহরহ তাই শোনা যায়। কিন্তু বাস্তবদৃশ্য ঠিক তার উল্টো। যেজন হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মেরুদণ্ড ভেঙে দিচ্ছে, তাকে ধরছে না পুলিশ বরং ওই আহতদেরকেই ধরে জেলে পুরছে। যারা মাদকের ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকা বানিয়ে ফেলেছে তাদেরকে না ধরে মাদকাসক্তদের ধরে ধরে কারাগার ভর্তি করছে পুলিশ। তথাকথিত ক্রসফায়ারে মেরে ফেলছে অনেককেই। এইসব উল্টো দৃশ্য দেখতে দেখতে বড় মানুষ তো বটেই কিশোর কিশোরীরাও অতিষ্ট। তারা বইয়ে পড়া পুলিশের সঙ্গে বাস্তবের পুলিশকে মেলাতে পারছে না, আবার নেতাদের কথার সঙ্গে্ও পুলিশকে মেলাতে পারছে না। ফলে তার সমস্ত ক্ষোভ গিয়ে পড়ছে পুলিশের ওপর।
২.
পুলিশকে গুপ্ত কেশের সঙ্গে তুলনা করায় আমার একসময়ের সহপাঠী বন্ধু-বান্ধবরা বেশ দুঃখ পেয়েছে, যারা এখন পুলিশ বাহিনীতে চাকরি করছে। ফেসবুকে ঢুকলেই তাদের দুঃখভারাক্রান্ত পোস্ট চোখে পড়ছে। এরকম দুঃখিত এক বন্ধুকে বলেছি, এসব ‘চ্যা-বা’ গালিকে ব্যক্তিগতভাবে না নিতে। কারণ পুলিশ কোনো ব্যাক্তির নাম নয়। এটি একটি সেক্টরের নাম। এটি একটি সিস্টেমের নাম। ফলতঃ গালিটা ওই সিস্টেমের বিরুদ্ধেই। আরো গভীরভাবে দেখলে দেখা যাবে, এই কিশোর কিশোরীরা বিভিন্ন গালিগালাজের মাধ্যমে যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সেটা মূলতঃ রাষ্ট্র ব্যবস্থার বিরুদ্ধেই ক্ষোভ। তারা প্রকৃতার্থে রাষ্ট্র ব্যবস্থাকেই চ্যালেঞ্জ করেছে। কোনো পুলিশকে নয়। পোস্টারগুলো লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, তারা লিখেছে ‘ফোর জি স্পিডের নেটওয়ার্ক চাই না, ফোর জি স্পিডের বিচারব্যবস্থা চাই’, ‘নয় টাকায় এক জিবি চাই না, নিরাপদ দেশ চাই’, ‘রাস্তা বন্ধ, রাষ্ট্রের মেরামত চলছে’ ইত্যদি। এইসব পোস্টার স্পষ্ট বার্তা দেয় যে তারা সমগ্র রাষ্ট্রব্যবস্থারই সংস্কার চায়। কিন্তু সেই সংস্কারের পথে পুলিশকে অন্যতম বাধা হিসেবে দীর্ঘ সময় ধরে দেখছে তারা। শুধু যে বিগত দশ বছর ধরে দেখছে তা নয়, বরং তারো বহু আগে থেকে এই চর্চা তারা দেখে আসছে। যখন যে সরকার ক্ষমতায় এসেছে, সে সরকারই পুলিশের ওপর ভর করে টিকে থাকতে চেয়েছে। তাই মানুষের যত ক্ষোভ পুলিশের ওপর।
কিন্তু প্রশ্ন উঠতে পারে, রাষ্ট্রের তো আরো অনুসঙ্গ তথা সেক্টর রয়েছে, সেসব বাদ দিয়ে শুধু পুলিশকে গালি দেওয়ার মাধ্যমে কেন ক্ষোভের প্রকাশ? উত্তর: দৃশ্যত পুলিশ বাহিনীর ওপর ভর করেই সরকার তার রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রেখেছে। পুলিশ বাহিনি সরকারের আজ্ঞাবহ দাসে পরিণত হয়েছে। সরকার তার বেশিরভাগ অপকর্মের বৈধতা আদায় করে নিচ্ছে পুলিশের মাধ্যমে। মানুষের জন্য সরকারের যাবতীয় অপকর্মের প্রতিবাদ করার পথে প্রধান অন্তরায় পুলিশ। মানুষ দেখছে, পুলিশ তার প্রতিবাদকে সরকারের কাছে পৌঁছাতে দিচ্ছে না। অর্থাৎ সরকার ও মানুষের মাঝে এক দুর্ভেদ্য দেয়াল হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে পুলিশ। মানুষ যদিও জানে, সরকারের নির্দেশেই পুলিশ দেয়াল হিসেবে কাজ করছে, তবু সব সময় যুক্তির নিরিখে মানুষ চলতে পারে না। বিশেষতঃ চতুর্পাশ থেকে নিপীড়ন যন্ত্র যখন মানুষকে ছিবড়ে ফেলে তখন তার যুক্তি লোপ পায়। এরসঙ্গে যুক্ত হয়েছে চিরায়ত নৈতিকতা। মানুষ সেই ছোটবেলা থেকে বই পুস্তকে পড়ে আসছে যে পুলিশ মানুষের বন্ধু। রাজনৈতিক নেতাদের মুখেও অহরহ তাই শোনা যায়। কিন্তু বাস্তবদৃশ্য ঠিক তার উল্টো। যেজন হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মেরুদণ্ড ভেঙে দিচ্ছে, তাকে ধরছে না পুলিশ বরং ওই আহতদেরকেই ধরে জেলে পুরছে। যারা মাদকের ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকা বানিয়ে ফেলেছে তাদেরকে না ধরে মাদকাসক্তদের ধরে ধরে কারাগার ভর্তি করছে পুলিশ। তথাকথিত ক্রসফায়ারে মেরে ফেলছে অনেককেই। এইসব উল্টো দৃশ্য দেখতে দেখতে বড় মানুষ তো বটেই কিশোর কিশোরীরাও অতিষ্ট। তারা বইয়ে পড়া পুলিশের সঙ্গে বাস্তবের পুলিশকে মেলাতে পারছে না, আবার নেতাদের কথার সঙ্গে্ও পুলিশকে মেলাতে পারছে না। ফলে তার সমস্ত ক্ষোভ গিয়ে পড়ছে পুলিশের ওপর।
![]() |
| শিল্পীর চোখে গণহিস্টিরিয়া। ছবি: সংগৃীত |
অতএব বলার অপেক্ষা রাখে না, পুলিশ এক্ষেত্রে ‘বলির পাঁঠা’ মাত্র। অন্যভাবে বললে বলা যায়, তার কাঁধে বন্দুক রেখেই সরকার সবধরনের শিকার করে। দেশ যদি সত্যিই উন্নত হতো তাহলে পুলিশ কখনোই বলির পাঁঠা হতো না। কথায় কথায় সরকার যেসব উন্নত দেশের উদাহরণ দেয় সেসব দেশে পুলিশ কোনো সরকারের ক্রীতদাসে পরিণত হয় না। সেটা হওয়ার সুযোগই নেই, কারণ সেখানে পুলিশ চলে একটি স্বাধীন কমিশনের মাধ্যমে। সঙ্গতকারণে সেসব দেশে পুলিশ যদি কোনো আইন করে বা কোনো নির্দেশনা দেয় সেই নির্দেশনা মানতে সেই দেশের স্বয়ং প্রেসিডেন্ট পর্যন্ত বাধ্য। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায়ই জনগণ রাস্তায় নেমে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘ফা** ইউ ট্রাম্প’ বলে মিছিলি করে। পুলিশ সেই মিছিলকে সম্পূর্ণ নিরাপত্তা দেয়। মিছিলকে নির্বিঘ্ন করার জন্য রাস্তা থেকে গাড়ি সরিয়ে দেয় পুলিশ। শুধু তাই নয়, এই মুহূর্তে রুলিং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী কারচুপির অভিযোগ তদন্ত করছে এফবিআই। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ তদন্ত করার সাহস কী পুলিশ রাখে? আমরা সবাই জানি, সাহস কিংবা অধিকার কিছুই রাখে না। তাই এই পুলিশ কোনো রাষ্ট্রীয় পুলিশ নয় বরং সরকারের ক্রীতপুলিশ। তো, যে পুলিশ জনগণের কাজে আসে না, রাষ্ট্রের কাজে আসে না, সেই পুলিশ ‘চ্যা-বা’ নয় তো কী? স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা মূলত সেটাই বলার চেষ্টা করেছে।
তাই এই গালিকে ব্যাক্তিগতভাবে নিজের গায়ে না নেওয়ার জন্য আমার পুলিশ বন্ধুদের অনুরোধ করি। (জানি, বিপদে পড়লে এই পুলিশ বন্ধুরাই আমাকে বাঁচাতে সবার আগে এগিয়ে আসবে)।
৩.
পুলিশ বন্ধুদের অারো বলি, মন খারাপ করার কিছু নেই। কারণ এরপর গালি খাওয়ার তালিকায় আসবে ডাক্তাররা। অতএব ডাক্তার বন্ধুরা, সাবধান হও এখন থেকেই। কেন একথা বলছি তা একটু পরে বলছি। তার আগে বলে নিই, এখন থেকে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তাদেরকে এই কিশোর আন্দোলন মাথায় রেখে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে। এরা পথে নামতে শুরু করেছে এবং সম্ভবত খুব ঘন ঘনই পথে নামবে। ইতিহাসের ধারাবাহিকতা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, পর পর কয়েক প্রজন্ম এক নাগাড়ে অথর্ব ও আপোষকামী হয় না। দুই তিন প্রজন্ম পর পর একটা প্রজন্ম প্রাকৃতিক নিয়েমেই আপোষহীন ও প্রতিবাদী হয়। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী প্রজন্ম নিঃসন্দেহে প্রতিবাদী ছিল এবং সেকারণে তারা প্রভূত ত্যাগ স্বীকার করে দেশ স্বাধীন করতে পেরেছে। তারপর গা এলিয়ে শুয়ে পড়েছিল সেই প্রজন্ম। তারা আশা করেছিল পরের প্রজন্ম ঠিকই হাল ধরবে। কিন্তু দৃশ্যত দেখা গেল, স্বাধীনতা-উত্তর কয়েক প্রজন্ম রানীক্ষেত রোগাক্রান্ত মুরগীর মতো ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে জীবন পার করে দিলো! অতঃপর প্রবল হতাশাগ্রস্ত জাতি হঠাৎ দেখল নব্বুয়ের প্রজন্ম গা ঝাড়া দিয়ে উঠেছে। তারা ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় বিপ্লবী হলো। প্রভূত ত্যাগ স্বীকার করে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করল। তারপর ভাবল, তাদের কাজ শেষ এখন বিশ্রাম নেবার পালা। তাদের বিশ্রামের সুযোগে পরবর্তী কয়েক প্রজন্ম আবার ঝিমানো রোগে আক্রান্ত হয়েছিল। এভাবে ঝিমাতে ঝিমাতে কেটে গেছে অনেক বেলা। আবার সময় এসেছে গা ঝাড়া দিয়ে উঠে দাঁড়াবার। তাই ২০১৮’র এই প্রজন্মকে বলা যেতে পারে গা ঝাড়া দেওয়া প্রজন্ম।
এই প্রজন্ম নানা কারণেই বারবার পথে নামবে বলে ধারনা করা যায়। যে কারণে তারা পুলিশের বিরুদ্ধে শ্লোগান ধরেছে, ঠিক একই কারণে একসময় ডাক্তারদের বিরুদ্ধেও শ্লোগান ধরবে তারা। কারণ পুলিশ সেক্টরের মতো মেডিকেল সেক্টরও পঁচেগলে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করেছে অনেক আগে থেকেই। সেই দুর্গন্ধ মানুষের শয়নকক্ষ পর্যন্ত পৌঁছে গেছে প্রায়। দুর্গন্ধে মানুষ ঠিকঠাকমতো ঘুমাতেও পারছে না। শ্বাস নিতে পারছে না। ফলে দুর্গন্ধ তাড়াতে খুব দ্রুতই পথে নামবে এই প্রজন্ম, তা আগাম ধারণা করাই যায়।
তাই এই গালিকে ব্যাক্তিগতভাবে নিজের গায়ে না নেওয়ার জন্য আমার পুলিশ বন্ধুদের অনুরোধ করি। (জানি, বিপদে পড়লে এই পুলিশ বন্ধুরাই আমাকে বাঁচাতে সবার আগে এগিয়ে আসবে)।
৩.
পুলিশ বন্ধুদের অারো বলি, মন খারাপ করার কিছু নেই। কারণ এরপর গালি খাওয়ার তালিকায় আসবে ডাক্তাররা। অতএব ডাক্তার বন্ধুরা, সাবধান হও এখন থেকেই। কেন একথা বলছি তা একটু পরে বলছি। তার আগে বলে নিই, এখন থেকে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তাদেরকে এই কিশোর আন্দোলন মাথায় রেখে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে। এরা পথে নামতে শুরু করেছে এবং সম্ভবত খুব ঘন ঘনই পথে নামবে। ইতিহাসের ধারাবাহিকতা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, পর পর কয়েক প্রজন্ম এক নাগাড়ে অথর্ব ও আপোষকামী হয় না। দুই তিন প্রজন্ম পর পর একটা প্রজন্ম প্রাকৃতিক নিয়েমেই আপোষহীন ও প্রতিবাদী হয়। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী প্রজন্ম নিঃসন্দেহে প্রতিবাদী ছিল এবং সেকারণে তারা প্রভূত ত্যাগ স্বীকার করে দেশ স্বাধীন করতে পেরেছে। তারপর গা এলিয়ে শুয়ে পড়েছিল সেই প্রজন্ম। তারা আশা করেছিল পরের প্রজন্ম ঠিকই হাল ধরবে। কিন্তু দৃশ্যত দেখা গেল, স্বাধীনতা-উত্তর কয়েক প্রজন্ম রানীক্ষেত রোগাক্রান্ত মুরগীর মতো ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে জীবন পার করে দিলো! অতঃপর প্রবল হতাশাগ্রস্ত জাতি হঠাৎ দেখল নব্বুয়ের প্রজন্ম গা ঝাড়া দিয়ে উঠেছে। তারা ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় বিপ্লবী হলো। প্রভূত ত্যাগ স্বীকার করে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করল। তারপর ভাবল, তাদের কাজ শেষ এখন বিশ্রাম নেবার পালা। তাদের বিশ্রামের সুযোগে পরবর্তী কয়েক প্রজন্ম আবার ঝিমানো রোগে আক্রান্ত হয়েছিল। এভাবে ঝিমাতে ঝিমাতে কেটে গেছে অনেক বেলা। আবার সময় এসেছে গা ঝাড়া দিয়ে উঠে দাঁড়াবার। তাই ২০১৮’র এই প্রজন্মকে বলা যেতে পারে গা ঝাড়া দেওয়া প্রজন্ম।
এই প্রজন্ম নানা কারণেই বারবার পথে নামবে বলে ধারনা করা যায়। যে কারণে তারা পুলিশের বিরুদ্ধে শ্লোগান ধরেছে, ঠিক একই কারণে একসময় ডাক্তারদের বিরুদ্ধেও শ্লোগান ধরবে তারা। কারণ পুলিশ সেক্টরের মতো মেডিকেল সেক্টরও পঁচেগলে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করেছে অনেক আগে থেকেই। সেই দুর্গন্ধ মানুষের শয়নকক্ষ পর্যন্ত পৌঁছে গেছে প্রায়। দুর্গন্ধে মানুষ ঠিকঠাকমতো ঘুমাতেও পারছে না। শ্বাস নিতে পারছে না। ফলে দুর্গন্ধ তাড়াতে খুব দ্রুতই পথে নামবে এই প্রজন্ম, তা আগাম ধারণা করাই যায়।
![]() |
| নৈতিক ব্ল্যাকমেইলের এই প্রতীকী চিত্র এঁকেছেন মাগন ভুজিনাক। ছবি: মাগনের ওয়েবসাইট |
জানি, আমার ডাক্তার বন্ধুরা খুব মন খারাপ করবে এই লেখা দেখে। তাদেরকে বলি: বন্ধু, কাঁচের ঘর থেকে বের হয়ে একটু মানুষের বুকে কান পাতো। শুনতে পাবে, সেখানে তোমাদের জন্য কত ঘৃনা টগবগ করে ফুটছে। তোমাদের চেম্বার থেকে একজন রোগী যখন বের হয় তখন তার মুখের দিকে একবার তাকিয়ে দেখো, অনেক কিছুই দেখতে পাবে। তোমাদের ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে বের হওয়ার সময় রোগীগুলোর চেহারার দিকে তাকিয়ে দেখো, অনেক কিছুই পড়তে পরবে। তোমাদের ওষুধ বাণিজ্য, তোমাদের কমিশন বাণিজ্য, তোমাদের ডায়াগনস্টিক বাণিজ্য, তোমাদের সার্জারি বাণিজ্য, তোমাদের আইসিইউ বাণিজ্য—এত এত বাণিজ্যের ধকল সাধারণ মানুষ আর সইতে পারছে না। কতকাল আর সওয়া যায় বলো?
তবে সবচেয়ে বড় কারণটা এবার বলি। ড্রাইভাররা যেমন মৃত্যুর খুব কাছাকাছি থাকে, তেমনি ডাক্তাররাও মৃত্যুর কাছাকাছি থাকে। ড্রাইভারদের হাতে যেমন অনেক মানুষের জীবন-মৃত্যু নির্ধারিত হয়, তেমনি চিকিৎসকদের হাতেও। এখন যেমন দুটো মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সবাই ড্রাইভারদের বিরুদ্ধে পথে নেমে এসেছে, তেমনি ডাক্তারদের হাতে কোনো রোগী মারা গেলে ভবিষ্যতে এই প্রজন্ম আবার তোমাদের বিরুদ্ধে পথে নামবে।
মেডিকেল সেক্টরের বিরুদ্ধে বিপ্লব আমার আশঙ্কা মাত্র, সমাজবিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে একধরনের পূর্বানুমান—কোনো সুনির্দিষ্ট পূর্বাভাস নয়। সুতরাং গুজব বলে উড়িয়ে দেয়া যায়।
তবে সবচেয়ে বড় কারণটা এবার বলি। ড্রাইভাররা যেমন মৃত্যুর খুব কাছাকাছি থাকে, তেমনি ডাক্তাররাও মৃত্যুর কাছাকাছি থাকে। ড্রাইভারদের হাতে যেমন অনেক মানুষের জীবন-মৃত্যু নির্ধারিত হয়, তেমনি চিকিৎসকদের হাতেও। এখন যেমন দুটো মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সবাই ড্রাইভারদের বিরুদ্ধে পথে নেমে এসেছে, তেমনি ডাক্তারদের হাতে কোনো রোগী মারা গেলে ভবিষ্যতে এই প্রজন্ম আবার তোমাদের বিরুদ্ধে পথে নামবে।
মেডিকেল সেক্টরের বিরুদ্ধে বিপ্লব আমার আশঙ্কা মাত্র, সমাজবিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে একধরনের পূর্বানুমান—কোনো সুনির্দিষ্ট পূর্বাভাস নয়। সুতরাং গুজব বলে উড়িয়ে দেয়া যায়।



0 Comments
Post a Comment